এই গরমে থাকুন Cool

3412072527_7f7e378395গরমে হাঁসফাঁস। কী খাবেন, পরবেন, কিভাবে সাজবেন বুঝতে পারছেন না? আপনার এসব সমাধান দিয়ে সাজানো হলো এবারের বিশেষ এ টু জেড।

গরমে শাড়ি শার্ট

শাড়ি

যাঁরা শাড়ি পরেন তাঁদের বোধ হয় গরমে বেশি অস্বস্তি হয়। অথচ অন্য পোশাকেও সহজ নন। তাঁদের কথা মাথায় রেখে ফ্যাশন হাউস বিবিআনার ডিজাইনার লিপি খন্দকার বলেন, ‘গরমে তাঁতের সুতি শাড়ি বা কোটা শাড়ি বেশ আরামদায়ক। দিনের যেকোনো অনুষ্ঠান উপলক্ষে রঙিন পাড়ের একরঙা সুতির কোটা শাড়ি বেছে নিতে পারেন। সুতির শাড়িতে সহজে বাতাস চলাচল করতে পারে, তাই গরমে আরাম পাওয়া যায়। তা ছাড়া এসব কাপড়ের শোষণ ক্ষমতাও বেশি। তাই ঘাম শুষে শরীর শুষ্ক রাখতেও সাহায্য করে। হালকা কাজের সুতি কোটা শাড়ি অফিসেও মানিয়ে যাবে অনায়াসেই। কোটা শাড়ির পাশাপাশি আমাদের দেশীয় তাঁতের শাড়ি যেমন-টাঙ্গাইলের তাঁত বা মণিপুরি তাঁতের শাড়িও গরমে বেশ আরামদায়ক। সন্ধ্যা বা রাতের জন্য জমকালো চাইলে হাফ সিল্কের ওপর কারচুপি, চুমকি, এমব্রয়ডারি, অ্যাপ্লিকের কাজ করা কোটা শাড়ি বেছে নিন।’

গরমে গাঢ় রং এড়িয়ে কিছুটা হালকা রঙের পোশাক বেছে নেওয়ার পরামর্শ দিলেন সাদাকালোর ডিজাইনার তাহসিনা শাহিন। এই গরমে সাদা, লেমন, হালকা গোলাপি, হালকা হলুদ, আকাশি, হালকা সবুজ ইত্যাদি রঙের পোশাক পরলে দেখতে স্নিগ্ধ লাগে। অন্যদের চোখেও দেখতে ভালো লাগে। আরো বললেন, ‘গরম মৌসুমে হালকা কাজ বা নকশার শাড়ি বেছে নেওয়া উচিত। একরঙা জমিন, ছোট বা চিকন পাড় আর হালকা বা ছোট আঁচলের শাড়ি বেছে নিলে আরাম হবে। চাইলে হালকা প্রিন্ট বা জলছাপ, বাটিক বা ব্লক ইত্যাদিও বেছে নেওয়া যেতে পারে। তবে প্রিন্টের রং যেন বেশি গাঢ় না হয় সেদিকে লক্ষ রাখুন।’

রাতের আমন্ত্রণে শাড়িতে একটু জমকালো ভাব থাকতেই পারে। অঞ্জনসের ডিজাইনার শাহীন আহমেদ জানালেন, ‘পাড়টা জমকালো এমন নকশার সিল্ক, হাফ সিল্ক, মসলিনের শাড়ি বেছে নিতে পারেন। শাড়ির জমিনজুড়ে থাকতে পারে একই রঙের সুতার কাজ। ব্লাউজটা জমকালো হলে ভালো দেখাবে। যেমন-কাতান বা সিল্কের কাপড়ে তৈরি বোট নেক, হাই নেক বা কলার দেওয়া স্লিভলেস ব্লাউজেই পার্টি লুক ফুটে ওঠে।’

এ সময়টা সামনের চুলগুলো পাফ করে নিতে পারেন। পেছনের চুলগুলো হাতখোঁপা করে কানে বড় দুল পরে নিলেই সম্পূর্ণ হবে সাজ।

রাতে উজ্জ্বল ও গাঢ় রঙগুলো নিয়ে আসতে পারেন শাড়িতে। কাতান কিংবা সিল্কের ব্লাউজ মানানসই রাতের পার্টিতে। আবার একেবারে সাদা সুতির শাড়িতেও নিয়ে আসতে পারেন পার্টি সাজ। সে ক্ষেত্রে ব্লাউজটি হতে পারে সোনালি সুতার কাজ করা। অনুষঙ্গ হবে পোশাকের রঙের একেবারে কন্ট্রাস্ট।

শার্টএই গরমে থাকুন Cool

গরমে আরামও চাই, আবার দরকার ফ্যাশনেবল লুক। একসঙ্গে দুটোই পেতে পারেন শার্টে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে শার্টের ফ্যাশন ও লুকে এসেছে পরিবর্তন। কাপড়, রং, ডিজাইন ও কাটিং ইত্যাদি ভেদে শার্টের রকমফের হয়। এখন সব বয়সীদের পছন্দের শীর্ষে চেক শার্ট। এসব শার্টের কাটিংয়ের ক্ষেত্রে কলার, হাতা বা প্লেটের ধরনে বেশ বৈচিত্র্য দেখা গেছে। জেন্টাল পার্কের প্রধান ডিজাইনার শাহাদৎ হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘আমরা ডিজাইনে সব সময় তারুণ্যের পছন্দকে প্রাধান্য দিই। আগে বডি ফিটিং শার্টের দিকে তরুণদের ঝোঁক থাকলেও গরমে কাটিংয়ের দিক থেকে সবার পছন্দের তালিকায় আছে স্লিমফিট শার্ট। আর তুলনামূলক ভালো শারীরিক গঠনের অধিকারী তরুণরা ঝুঁকছে মাসলফিট শার্টের দিকে।’ এ ছাড়া ক্ল্যাসিক বা রেগুলার শার্টও সব সময়ের জন্য আরামের। এই শার্টের বিশেষত্বও কাটিংয়ে। আবার ফরমাল বা বিজনেস শার্টের বেলায় পার্থক্য তৈরি করে মূলত ডিজাইন। কাটিংয়ের ভূমিকা এখানে খুবই কম। কারণ এতে কলার, হাতা কিংবা অন্য কোথাও বাড়তি কাজের বা কারসাজির সুযোগ নেই। সবই হয় নিয়ম মেনে। আবার ক্যাজুয়াল শার্টে মোটিফ, কাটিং ও ডিজাইন নিয়ে এদিক-ওদিক করার অনেক সুযোগ আছে। ফুলশার্ট, নিউ কাট, স্ট্রেইট কাট, ওয়াউড কলার, হাই ব্যান্ড, লং ব্যান্ড, বাটন ডাউন কলার, অ্যারো শেপ, হিডেন কলারসহ বিভিন্ন কলার এসব শার্টে ব্যবহার হয়ে থাকে। শার্ট কেনার সময় কলারের পাশাপাশি জানতে হবে গলার মাপ, হাতার মাপ, বুকের মাপ, লম্বায় কত, বাহুর মাপ ইত্যাদি। বাহুর মাপ খুবই গুরুত্বপূর্ণ মাসলফিট শার্ট পরার বেলায়। কেক্রাফটের কর্ণধার খালিদ মাহামুদ খান বলেন, ‘শার্ট বেছে নিতে হয় নিজের মাপমতো। দেখা গেল কেউ ডিজাইন দেখে শার্ট নিল; কিন্তু মাপে হলো না, তাতে তো লাভ নেই। আবার কলার বা হাতায় ব্যাপক নিরীক্ষা হয়েছে দেখে নিয়ে নিলাম, তা-ও গায়ে হলো না। এভাবে শার্ট না নেওয়াটাই বুদ্ধিমানের কাজ। নিজের মাপ জেনেই নিতে হবে ক্ল্যাসিক বা রেগুলার, ফরমাল বা ক্যাজুয়াল স্লিমফিট ও মাসলফিট শার্ট।’

স্টুডিও এমদাদের ডিজাইনার এমদাদ হক জানালেন, বছরকয়েক আগেও মনে করা হতো গোলাপি, ম্যাজেন্টা, হলুদ, পার্পল, মেরুন, কমলা প্রভৃতি রং কেবল মেয়েদের জন্যই। ফলে ছেলেদের শার্টে এসব রঙের ব্যবহার করা হতো না বললেই চলে। তবে দিন বদলেছে। এখন ওই সব বৈচিত্র্যময় রংকে প্রাধান্য দিচ্ছে এ প্রজন্মের তরুণরা। বাজার ঘুরে দেখা গেল, হালকা একরঙা হাফ বা ফুলশার্ট যেমন আছে, তেমনি আছে গাঢ় রঙের শার্ট। কয়েক রঙের দারুণ সমন্বয়ে তৈরি শার্টও বেশ চলছে। বিশেষ করে ছেলেদের হাফ শার্টের কলার আর হাতায় ব্যবহার করা হচ্ছে ভিন্ন ভিন্ন রং। কিছু শার্টের বুকপকেট বানানো হয়েছে আলাদা রঙের কাপড় দিয়ে। কোনো কোনো শার্টে দেখা গেছে ডাবল পকেট। সিনথেটিকের বদলে ব্যবহৃত হচ্ছে নরম সুতি কাপড়। কাপড়ের ক্ষেত্রে রয়েছে রেনন, লিনেন, সুতি, ফুল কটন, মিঙ্কটন, খাদি, তাঁত, টেরিভয়েল প্রভৃতি। প্রিন্টের ক্ষেত্রে বড় বড় চেকের পাশাপাশি স্ট্রাইপ বা ছোট চেকও বাদ যাচ্ছে না। আবার রেগুলার শার্টে বাটিক ও টাইডাই প্রাধান্য পাচ্ছে। শার্টের হাতার ডিজাইনে আছে ফোল্ড লকার। এ প্রসঙ্গে এমদাদ হক বলেন, ‘গরমে ফুল হাতা বা ক্যাজুয়াল শার্ট অনেক সময় অস্বস্তির কারণ হয়। তাই বাইরে বের হওয়ার জন্য হাফশার্ট মানিয়ে যায় বেশ। বাজারে কটন ও মিঙ্ড দুই ধরনের কাপড়ে তৈরি ক্যাজুয়াল শার্টও মিলছে। এসব শার্টের হাতায় নরমাল কাফ ও কলারকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।’ ফ্যাশন হাউস মেনজ ক্লাবের ডিজাইনার মাহমুদুল হেলাল বললেন, ‘গরমে আমরা হরেক রকম ডিজাইন শার্ট করেছি। এসব শার্টের কলার কাফ ও ফিটিংসে থাকছে প্যাটার্ন বৈচিত্র্য। আরামদায়ক কাপড়ে রং হিসেবে থাকছে সামার সফট কালার। চলতি সময়ের ট্রিম বা স্লিম ফিটের সঙ্গে থাকছে প্রিন্টেট ফেব্রিকস।’

 

কোথায় পাবেন ও দরদামএই গরমে থাকুন Cool

কোটা শাড়ি, তাঁত ও টাঙ্গাইল শাড়ি, হাফ সিল্ক পাবেন আড়ং, কুমুদিনী, অঞ্জন’স, রঙসহ দেশীয় বিভিন্ন ফ্যাশন হাউসের শোরুমে। এসব শাড়ি মিলবে ৮০০ থেকে ১৮০০ টাকার মধ্যে। অঞ্জন’স, আড়ং, কে ক্র্যাফট, বাংলার মেলা, অন্যমেলা প্রভৃতিতে মিলবে সুতি কাপড়ের ক্যাজুয়াল শার্টও। ইনফিনিটি, এলিগ্যান্ট, রেঙ্, ওয়েসটিন কালেকশন, জেন্টাল পার্ক, আর্টিস্টি, প্লাস পয়েন্ট, মেনজ ক্লাব, ব্যাঙ, ফ্রিল্যান্ড, ইজি, ট্রেন্ডস, ক্যাটস আই, রিচম্যান, এক্সটেসিসহ  যেকোনো ব্র্যান্ডের শোরুমে পাবেন ক্যাজুয়াল ও ফরমাল শার্ট। ব্র্যান্ডের এসব শার্টের দাম পড়বে ৯০০ থেকে ৪০০০ টাকার মধ্যে। এ ছাড়া নন ব্র্যান্ডের শার্ট পাবেন ৫০০ থেকে ৯০০ টাকায়।

Related Posts