৬৪ জেলায় তৈরি হচ্ছে ফ্রিল্যান্সারদের ফ্রি ল্যাব

Coworking-620_0বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো সরকারি উদ্যোগে দেশের ৬৪ জেলায় ফ্রিল্যান্সারদের ফ্রি ল্যাব তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ফ্রিল্যান্সারদের এই ল্যাব তৈরি কাজ চলতি অর্থ বছর থেকেই শুরু হবে। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কম্পিউটার, ইন্টারনেটসহ সকল আধুনিক সুবিধা সম্বলিত এই ল্যাব সবার আগে তৈরি হবে গোপালগঞ্জে। জেলা ভিত্তিক দেশের শীর্ষ ফ্রিল্যান্সাররা বিশেষ কার্ড ব্যবহার করে এসব ল্যাব বিনামূল্যে ব্যবহার করতে পারবেন। তথ্য-প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক এই প্রতিবেদকের সঙ্গে একান্ত আলাপকালে এসব তথ্য জানিয়েছেন। এদিকে ফ্রিল্যান্সাদের জন্য ইতোমধ্যেই সারাদেশে জেলা ভিত্তিক ফ্রিল্যান্সার অ্যাসসিয়েশন গঠনের কাজ শুরু হয়েছে। তাদের মাধ্যমেই নির্বাচিত শীর্ষ ফ্রিল্যান্সারদের জন্য কার্ড ইস্যু করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে।

বাংলাদেশে ফ্রিল্যান্সারদের জন্য এই ‘বিশেষ ল্যাব’ নতুন ধারণা হলেও বহির্বিশ্বে অনেক আগে থেকেই এ কার্যক্রম চালু রয়েছে। এ ধরণের সেবাকে ‘কো-ওয়ার্কিং স্পেস’ হিসেবে ওই সব দেশে বিবেচিত হয়ে থাকে। এ ব্যাপারে বাংলাদেশে ইল্যান্স-ওডেস্ক-এর কান্ট্রি ম্যানেজার সাইদুর মামুন খান জানিয়েছেন, ‘কো-ওয়ার্কিং স্পেস’ শব্দটি আমাদের দেশে পরিচিত না হলেও বিশ্বের অনেক দেশেই খুবই সাধারণ একটি ব্যবসা এটি। কো-ওয়ার্কিং স্পেস এমন একটি জায়গা যেখানে অনেকে মিলে একসাথে বসে কাজ করতে পারে। ধারণাটি আমাদের দেশে প্রচলিত না হলেও ধীরে ধীরে এর প্রসার বাংলাদেশেও উঠে আসছে।

তিনি এর ব্যাখ্যা করে বলেন, কো-ওয়ার্কিং স্পেস হচ্ছে এমন একটি অফিস স্পেস, যেখানে একজন ফ্রিল্যান্সার বা নবীন উদ্যোক্তা নিজের জন্য বা নিজের টিমের জন্য একটি বা গুটিকয়েক ডেস্ক ভাড়া নিয়ে নিতে পারেন। যেটা হতে পারে মাত্র কয়েকদিনের জন্য বা কয়েক মাসের জন্য। প্রচলিত অফিসের মত এখানে বিশাল পরিমাণ অগ্রিম দিতে হয় না, কোন ফার্নিচার কিনতে হয় না। এছাড়া ইন্টারনেট, শীতাতপ-নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র সবকিছুই রেডি থাকে। কেউ চাইলে শুধুমাত্র ডেস্ক ভাড়া নিয়ে অফিস করতে বসে যেতে পারেন। এরকম অফিস আমি নিজেও প্রচুর দেখে এসেছি যুক্তরাষ্ট্র এবং ফিলিপিন্সে।

বাংলাদেশেও ক্ষুদ্র পরিসরে এ ধরণের কার্যক্রম চালু আছে বলেও সাইদুর মামুন খান জানান। তিনি বলেন, তবে বাংলাদেশেও এ ধরণের সেবা বেসরকারি ভাবে দুইটি প্রতিষ্ঠান বেশ আগে থেকেই চালু করেছে। একটি বনানীতে অবস্থিত দ্যা ওয়েভে এবং অপরটি মিরপুর-১১ এলাকায় অবস্থিত হাব-ঢাকা। এসব ল্যাবে দিন বা মাস ভিত্তিক নির্দিষ্ট একটি পিসি ভাড়া নেওয়া যায়। এবং একটি অফিসের সকল ধরণের সুযোগ-সুবিধা ভোগ করা যায়। এখানে অন্যান্য উদ্যোক্তাদের সাথে নিয়মিত নেটওয়ার্কিং করা, নিজের ব্যবসা প্রসারে বিভিন্ন সহায়তা এবং প্রয়োজনে ওয়েভের ঠিকানা ব্যবহার করে নিজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নিবন্ধন করা যায়। ওয়েভের সাথে ইল্যান্স-ওডেস্কের একটি চুক্তি রয়েছে, যার মাধ্যমে ইল্যান্স-ওডেস্কের ব্যবহারকারীরা ওয়েভে নির্দিষ্ট ডিসকাউন্টও পেয়ে থাকেন বলে তিনি উল্লেখ করেন। অন্যদিকে মিরপুর-১১ এলাকায় গড়ে উঠা হাব-ঢাকা আরেকটি নতুন কো-ওয়ার্কিং স্পেস, যেখানে কাজের পাশাপাশি প্রায়ই হয়ে থাকে ফ্রিল্যান্সার এবং উদ্যোক্তাদের জমজমাট আড্ডা এবং বিভিন্ন নেটওয়ার্কিং অনুষ্ঠান।

মামুন বলেন, ফ্রিল্যান্সার হোক বা নবীন উদ্যোক্তা, মুক্ত পেশাজীবী হিসেবে মাত্র ক্যারিয়ার শুরু করা যে কারও জন্য কো-ওয়ার্কিং স্পেস হতে পারে একটি আদর্শ স্থান। কারণ শুরুতেই বিশাল পরিমাণ বিনিয়োগ করতে হচ্ছে না এবং একদমই একা হয়ে কাজ করতে হচ্ছে না। তাছাড়া ফ্রিল্যান্সারদের একটি সাধারণ অভিযোগ হচ্ছে বাসায় বসে কাজ করার কারণে অনেকে এটা পছন্দ করে না, সেক্ষেত্রে কো-ওয়ার্কিং স্পেস নিজের একটি অফিস হিসেবে ব্যবহার করে অবস্থানটি পরিবর্তন করা সম্ভব হবে। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, দেশে এমন স্পেস আরও তৈরি হবে এবং দেশের উদ্যোক্তাদের এগিয়ে যাওয়া আরও সহজ হবে।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশে বর্তমানে কতজন ফ্রিল্যান্সার কাজ করছেন তার কোন সঠিক পরিসংখ্যান নেই। ইল্যান্স ও ওডেস্ক তাদের বাংলাদেশের প্রতিনিধির মাধ্যমে তথ্য প্রকাশ করলেও পৃথিবীর সব থেকে বড় অনলাইন মার্কেট প্লেস ফ্রিল্যান্সার.কমের এ দেশে কোন প্রতিনিধি না থাকার কারণে তাদের পুরাতন তথ্য ছাড়া নতুন কোন তথ্য পাওয়া যায় না। তবে বাংলাদেশে ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড-২০১৪ এর এক অনুষ্ঠানে গত ৬ জুন সর্বশেষ ইল্যান্স ও ওডেস্ক-এর কিছু পরিসংখ্যান দিয়েছিলেন সাইদুর মামুন খান। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশে ২০১৪ সালের প্রথম প্রান্তিক পর্যন্ত এই দুটি প্রতিষ্ঠানের রেজিস্টার সদস্য ৩ লাখ ৮৭ হাজার ১১৪ জন। ২০১২ সালে এ সংখ্যা ছিল ২ লাখ ৪২ হাজার ২৬৮ জন। পরের বছরে এ সংখ্যা ছিল ৩ লাখ ৬২ হাজার ৯৪৮ জন।

এদিকে ইল্যান্স ও ওডেস্ক থেকে বাংলাদেশের ফ্রিল্যান্সাররা ২০১০ সাল থেকে ২০১৪ সালের প্রথম প্রান্তিক পর্যন্ত আয় করেছেন ৫ কোটি ৩২ লাখ ৯১ হাজার ৬৯৯ মার্কিন ডলার। ২০১২ সালে এই আয়ের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৫৬ লাখ ১২ হাজার ৫১২ ডলার এবং পরের বছর এই আয়ের পরিমাণ ছিল ২ কোটি ৯ লাখ ৯৫ হাজার ১৪৮ ডলার।

– এম. মিজানুর রহমান সোহেল

Related Posts