সতী, সতীত্ব ও দ্বান্দিক ভাবনার আজাইরা পেচাল

 

dfd-660x330মালয় থেকে চৈনিক দেশ , সব খানে তোর প্রিয়ে

বাঙাল মেয়েও ভাল্লাগে তোর করতে মজা নিয়ে

সবাই তোকে চায় বলে তুই মহান হয়েই থাকিস

যেদিন যাকে চাইলে পাবি তাহার দিকেই বাকিস

সবাইকে তোর আপন লাগে , প্রেমের এমন লীলা

এক জনকেও হারালে তোর শরীর পরাণ বিলা

বউটা কিন্তু অন্যরকম , এক্কেবারে ভিজে

বান্ধবীরাই বেশ্যা হলো, থাকলি সাধু নিজে !

কবিতাটা পড়েছিলাম অনেকদিন আগে। হেসে ফেলেছিলাম। আবার একটু ভাবলাম। নাহ! একেবারে সত্যি কথা।.একটা ব্লগ পড়লাম, নারীর সতিচ্ছদ নিয়ে। লেখক বলেছেন- “মেয়েদের সতীত্বের প্রধান এবং একমাত্র প্রমাণ হচ্ছে তার সতীচ্ছদ পর্দা। বিধাতার পরম ভালবাসায় সৃষ্ট মানব জাতিঃ পুরুষ এবং নারী। কিন্তু স্রষ্টার আজব খেলা, পুরুষের বিবাহ পূর্ব যৌণ মিলনের কোন চিহ্ন থাকে না। আর নারী, তার সতীত্ব হারানোর চিহ্ন রেখে যায় তার সতীচ্ছদ পর্দা হারানোর মাধ্যমে।”

মানলাম। কিন্তু, সতীত্বের সংজ্ঞা কি? আসেন দেখি-

Hymen: A thin membrane which completely or partially occludes the vaginal opening. The hymen is a fold of mucous membrane usually present at birth at the orifice of the vagina. It is also called the vaginal membrane (or, sometimes, the virginal membrane).

“Hymen” is a Greek word meaning “skin” or “membrane.” The ancient Greeks applied the word to all kinds of membranes including, for example, the membrane that surrounds the heart (the pericardium). Starting in the 1500s the word was restricted to refer only to the vaginal membrane.

পুরুষের তো কোন ঐ পর্দা জাতীয় ব্যাপার স্যাপার নেই। তাহলে পুরুষের ক্ষেত্রে কি হবে??

যে নারী তার নিজের অনিচ্ছায় সংগমে লিপ্ত হতে বাধ্য হয়েছে, তারও কি সতীত্ব নেই?? সতী শব্দটা বাংলায় আসলো কোথা থেকে? হিন্দু ধর্মের মহাভারত থেকে আমরা জানতে পারি যে, সীতাকে তার বাবা পেয়েছিলেন মাঠে লাঙল দিতে গিয়ে। লাঙলের ফলার যে দাগ, সেই দাগকে সীতা বলা হয়। সেই দাগের মাঝ থেকে প্রাপ্ত মেয়েকে নাম দেয়া হয় “সীতা”। তাঁকে যখন রাবন চুরি করে নিয়ে যায়, তখন রামের মনে সন্দেহ না থাকলেও উদ্ধারের পর প্রজাদের দাবিতে সীতা যে পবিত্র, তার পরীক্ষা দেয়া লাগে। অগ্নিপরীক্ষা নামেই সেটা খ্যাতো। তো সীতার সেই পরীক্ষাই প্রমাণ করেছিলো সে পবিত্র। সেই সীতা থেকেই বিবর্তিত হয়ে সতী শব্দটা বাংলায় যুক্ত হয়। এখনো নারীরা সতীর উদাহরণ হিসেবে সীতাকেই মানে। যে দীর্ঘ কয়েক বছর রাবনের সাহচর্যে থেকেও নিজেকে পবিত্র রাখতে সমর্থ হয়েছে।

তো, সতীত্ব আসলে কোথায়?? সীতার তো তখন বিয়ে হয়ে গিয়েছিলো। স্বাভাবিক কারণেই হাইমেন থাকার কথা নয়। তাহলে কিভাবে এটা নিরুপন করা হলো?? এইখানেই মূলত আমার মতামত। হয়তো সবার কাছে গ্রহন যোগ্য হবেনা। আমি মনে করি সতীত্ব মানুষের মনে। একজন যদি কারো সাথে দৈহিক সম্পর্ক করেও, তারপরও যদি সে সেই মানুষ টিকে মনে স্থান না দিয়ে তার ভালোবাসার মানুষটিকেই স্থান দেয়, সেটিই সতীত্ব। তবে সেটা একসাথে দুইজন কে নয়। একটি মেয়েকে রেপ করা হয়েছে। সে কি অসতী?? না। আমি বলবো না। তার তথাকথিত হাইমেন না থাকতে পারে, কিন্তু সে সতী। মামারা, নিজের বুকে হাত দিয়ে বলেন তো আপনি সতী কিনা?? এ সমাজে পুরুষরাই বড়ো অসতী। আর একজন মেয়ে তার হাইমেন হারানোর দোষে হয়ে যায় কুলটা, সমাজছাড়া। শুধু মাত্র ঐ এক হাইমেনের কারণে পাকিস্তানে, আফগানিস্তানে, ইরানে আজ “সম্মান রক্ষার জন্য হত্যা(!!)” আদৃত, সমাদৃত! হাজারে হাজারে নারীকে পচতে হচ্ছে জেলে। কয়জন পুরুষ এর ফল ভোগ করে?? কয়জন পুরুষকে মরতে হয় এই তথাকথিত কৌমার্য হারিয়ে?

আজকাল নয়া ব্যাবসা শুরু হয়েছে। নকল হাইমেন লাগানো। চীনে তো মাত্র ২৩ ইউরো দিয়ে কুমারিত্ব ফেরানোর কথা বলে বিজ্ঞাপন দিচ্ছে ওয়েবসাইটে। তবে তারা এক্ষেত্রে যে ইলাস্টিক ব্যবহার করে এবং তাতে যে রক্ত দেয়া থাকে তা ভুয়া। যখন তা একজন নারীর প্রজনন অঙ্গে স্থাপন করা হয় তখন তিনি নানা রকম জটিলতায় ভুগতে পারেন। এই ভোগান্তি শুধু নারীদের। আর আমরা পুরুষরা?? গায়ে হাওয়া লাগিয়ে ঘুরে বেড়াই একটা বেশ্যার চেয়েও জীবনে বেশী যৌনসংসর্গ করে!

ধিক এই সতী প্রথা, ধিক এই হাইমেন, ধিক এই সমাজ। আসুন শরীরে সতী না হয়ে মনে সতী হই।

Related Posts