রাজনীতি গোল্লায় পাঠাচ্ছে আপনার প্রেমকে!

 আপনার প্রেমকে!রাজনীতি গোল্লায় পাঠাচ্ছে আপনার প্রেমকে!রোজ রাতে ঘুমুতে যাওয়ার সময় পার্টনারের সঙ্গে কি গরমা-গরম রাজনৈতিক আলোচনায় মত্ত থাকেন আপনি? তা হলে এখনই তা বন্ধ করুন। জানেন কি দেশ-দশের হাল হকিকত নিয়ে চর্চার চক্করে ক্রমেই গোল্লায় যাচ্ছে আপনার প্রেম-জীবন? সম্প্রতি একটি সমীক্ষায় জানা গেছে বিতর্কিত রাজনৈতিক আলোচনা শেষ করে দিতে পারে আপনার ভালোবাসা।

রিলেশনসিপ এক্সপার্ট জোয়ান বার্নার্ড জানিয়েছেন ৭৭% যুগল নিজেদের মধ্যে গঠনমূলক রাজনৈতিক আলোচনা করতে পছন্দই করেন। ১৭% জানিয়েছেন রাজনৈতিক আলোচনার ক্ষেত্রে তারা দুই বিপরীত মেরুর বাসিন্দা।

এই সমীক্ষা থেকে জানা গেছে পুরুষদের তুলনায় মহিলারা অনেক বেশি রাজনীতি নিয়ে মাথা ঘামান। পার্টনারের রাজনৈতিক মতাদর্শ সম্পর্কের ক্ষেত্রে কতটা গুরুত্বপূর্ণ? এই প্রশ্নের উত্তরে ২০% মহিলারাই জানিয়েছেন ‘ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ’।
তুলনামূলক কম বয়সী যুগলরা রাজনীতি নিয়ে অনেক খোলামেলা আলোচনায় বিশ্বাসী। সাধারণত গোঁড়ামির পথ এড়িয়ে চলে তারা।

১৮ থেকে ২৪ বছর বয়সীরা ভিন্ন রাজনৈতিক ভাবনার কারও সঙ্গে প্রেম করতে প্রস্তুত।

২৪ বছরের বেশি বয়সীদের মধ্যে ২০% জানিয়েছেন কাউকে মনে মনে পছন্দ হলেও শুধুমাত্র রাজনৈতিক ভাবনা ভিন্ন হওয়ায় সম্পর্ক থেকে পিছিয়ে এসেছেন তারা।

১৮ থেকে ২৪ বছর বয়সী পুরুষদের ২৫% অধিকাংশই জানিয়েছেন পার্টনারদের প্রভাবে বদলে গেছে তাদের রাজনৈতিক মতাদর্শ।

মনে রাখার মত আরো কিছু টিপস দিচ্ছি :

প্রিয় পাঠকবন্ধুরা আজকের পোষ্টটি একটু ভিন্ন টাইপের। তা নিশ্চয়ই পোষ্টের হেডলাইন দেখেই বুঝতে পারছেন। প্রেম-ভালবাসার সম্পর্ক মধুর সম্পর্ক। আর যদি যে সম্পর্ক একটু ভুলের কারণে নষ্ট হতে চলে, তাহলে কি অবস্থা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। একটু খেয়াল করুন – প্রেম ভালবাসা সম্পর্ক নষ্ট হয়ে যায় যে কারণে :-ভালোবাসার মানুষের সঙ্গে সম্পর্কে কি করতে হবে, আর কি না করতে হবে এ ব্যাপারে আমাদের শিখিয়ে দেবার কেউ নেই। স্কুলে এ ব্যাপারে শেখানো হয় না, বাবা-মায়ের সম্পর্ক দেখেও আসলে খুব একটা বোঝা যায় না। কিন্তু এমন কিছু কাজ আছে যেগুলো ভালো মনে হলেও আসলে উপকারের চাইতে ক্ষতিই বেশি। এ কারণে অনেকের সম্পর্কেই থাকে ভঙ্গুর প্রকৃতির। বর্তমান সময়ে মনস্তত্ববিদরা গবেষণা করে দেখছেন, বেশ কিছু রীতি আছে যেগুলো আমাদের বাদ দেয়াই ভালো। সাধারণত আমরা যাকে “রোমান্টিক”বলে মনে করি এমনই কিছু অভ্যাস আসলে আমাদের বাদ দেয়ার সময়ে হয়েছে।

 

হিসেব রাখা:

ভাবছেন, কিসের হিসাব? এটা হলো ভুলের হিসাব। সঙ্গী অতীতে কি ভুল করেছেন, কি করে আপনাকে কষ্ট দিয়েছেন তার হিসাব রাখেন আপনি। এরপর ঝগড়ার সময়ে এই কথা টেনে আনেন। বিগত মাসে/বছরে কে কয়টা ভুল করলো, এমন একটা হিসাব যদি আপনাদের মাঝে থেকে থাকে তবে এখনই মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলুন এর চিন্তা। আপনার মনে হতে পারে, আমার অমুক বন্ধুও তো তার প্রেমিক/স্বামীর সঙ্গে এমন হিসেব রেখে চলে, তবে আমি করলে দোষ কি?

 

জেনে রাখুন, সবাই করছে বলেই কাজটি ঠিক এমন চিন্তা ভুল। অতীতের ভুলের জন্য কেন আপনি সঙ্গীকে ক্রমাগত কষ্ট দিয়ে যাবেন? শুধু তাই নয়, তার ভুলটাকে মনে রাখতে রাখতে আপনার মনটাই বিষিয়ে উঠছে, তা কি আপনি বুঝতে পারছেন না?

 

হেঁয়ালি করা:

নিজের কোনো কথা বা ইচ্ছাকে সরাসরি না বলে হেঁয়ালি করে, ঘুরিয়ে পেঁচিয়ে অন্য কোনো কাজের মাধ্যমে উপস্থাপন করা। তার কোনো কাজ আপনার ভালো লাগলো না, আপনি তা সরাসরি না বলে উল্টো এটা-সেটা করে তার মেজাজ খারাপ করে দিলেন। এমনভাবে দুজনের মাঝে যোগাযোগের ঘাটতি তৈরি হয়। শুধু তাই নয়, আপনাদের মাঝে যদি বোঝাপড়া ভালো থাকে, তবে এভাবে হেঁয়ালি করার কোনো দরকারই পড়ে না। তাই এমন কাজ না করে বরং দুজনের মাঝে আস্থা বাড়ানোর চেষ্টা করুন।

সম্পর্ক ভাঙ্গার হুমকি:

“তুমি ওই কাজ আবার করলে কিন্তু আমি তোমার সাথে সম্পর্ক রাখবো না”- কি, চেনা চেনা লাগছে কথাটা? অনেকেই সঙ্গীকে বশে আনার জন্য সম্পর্ক ভেঙ্গে ফেলার হুমকি দেয়। সম্পর্কটাকে এভাবে ব্যবহার করা ভীষণ অন্যায়। সঙ্গীর কোনো কাজ পছন্দ না হলে, বা তার থেকে কিছু চাইলে আপনি সরাসরি বলুন। দুজনের মাঝে ঝগড়া হতেই পারে, কিন্তু নিজের ফায়দার জন্য এভাবে সম্পর্কটাকে টেনে আনবেন না।

নিজের আবেগের জন্য সঙ্গীকে দোষারোপ:

ধরুন আপনার দিনটা খুব খারাপ যাচ্ছে। আপনি চাইছেন সঙ্গী আপনাকে সময় দিক। কিন্তু তিনিও অনেক ব্যস্ত, আপনাকে কোনোভাবেই সময় দিতে পারছেন না। এমন সময়ে কী করবেন? বেশিরভাগ মানুষই আচ্ছামত সঙ্গীর ওপর ঝাল ঝাড়েন। সঙ্গীকে বলেন তার জন্যই দিনটা এমন খারাপ যাচ্ছে। এমনটা করা কিন্তু খুব স্বার্থপরতার লক্ষণ। আপনার দিন খারাপ যাবার দায় তাকে নিতে হবে কেন? নিজের আবেগের ভার নিজেই নিন। সে যদি আপনার মন ভালো করতে পারে, আপনাকে সময় দিতে পারে ভালো, না দিতে পারলেও দোষের কিছুই নেই তা মনে রাখুন।

রোমান্টিক ঈর্ষা:

প্রেমিক যখন অন্য এক সুন্দরীর দিকে তাকায়, তার প্রশংসা করে, নিজের সুন্দরী বান্ধবীর সঙ্গে কথা বলে তখন ঈর্ষায় জ্বলে যান অনেক নারী। তেমনিভাবে প্রেমিকা যদি তার ছেলে বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটায়, তাদের সঙ্গে এখানে ওখানে ঘুরতে যায়, হাসাহাসি করে তাহলেও ঈর্ষায় পুড়ে যান পুরুষ। এখানেই ব্যাপারটা থেমে যায় না, বরং এ ব্যাপারটা নিয়ে পরে সঙ্গীর সাথে ভীষণ মনোমালিন্য করেন তারা। ‘অমুক বন্ধুর সঙ্গে এতো হেসে কথা বলবে না, অমুক মেয়ের সঙ্গে এতো ঘুরতে যাওয়া কিসের’ এমন কথাগুলো শুনতে পাওয়া যায় সবসময়েই।

 

শুনে রাখুন, সঙ্গীর জীবন এভাবে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা কখনো সফল হয় না। এর ফল হয় মারাত্মক। অযথা এমন ড্রামা না করে সঙ্গীর ওপর আস্থা রাখুন। তিনি যদি সত্যিই আপনাকে ভালোবাসেন তবে এক ডজন নারী/পুরুষ বন্ধু থাকলেও চিন্তার কিছু কারণ নেই।

সমস্যা ঠিক করতে উপহার:

সম্পর্কে সমস্যা থাকতেই পারে। কিন্তু সেই সমস্যা ঠিক করতে উভয় পক্ষের মাঝে সমঝোতা দরকার। এর বদলে সমস্যাটাকে ধামাচাপা দিতে আপনি সঙ্গীকে বাইরে খেতে নিয়ে গেলেন, কোথাও বেড়াতে নিয়ে গেলেন, কিনে দিলেন দামি কিছু জিনিস। এতে সাময়িকভাবে তিনি চুপ থাকলেও সমস্যাটার আসলে কোনো সমাধান হলো না। এই কাজ বারবার করতে থাকলে সমস্যার পাহাড় জমে যাবে আপনাদের মাঝে আর একটা সময়ে সেই পাহাড় আপনারই ওপর ধ্বসে পড়বে।

Related Posts