মেয়েদের ঋতুস্রাব এবং কিছু জ্ঞাতব্য

মেয়েদের ঋতুস্রাব মা’র স্বাস্থ্য সম্পর্কে জানতে হলে আমাদের আগে জানতে হবে বয়ঃসন্ধিকাল ও প্রজনন স্বাস্থ্য সম্পর্কে। বিশেষ করে মেয়েদের জন্য এটা জানা অনেক দরকারী। কারণ একজন সুস্থ মেয়ে যখন মা হবে তখনই সে পারবে সুস্থ শিশুর জন্ম দিতে।

শুরুতেই বয়ঃসন্ধিকাল কি? ছেলে-মেয়েদের বয়স যখন দশ থেকে উনিশ বছর সেই সময়টাকেই বয়:সন্ধিকাল বলে। শৈশব ও যৌবন এর মাঝামাঝি এ সময়টাকে অনেকে উঠতি বয়সও বলে থাকে। এসময় ছেলে ও মেয়েদের মানসিক ও শরীরের অঙ্গ-প্রতঙ্গের পরিবর্তন ঘটে।

মেয়েদের জন্য এই সময়টা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। এ বয়সে মেয়েদের শারীরিক ও প্রজনন অঙ্গের যেসব পরিবর্তন দেখা যায় যেমন,

১। ওজন দ্রুত বৃদ্ধি পায়।
২। উচ্চতা দ্রুতবৃদ্ধি পায়।
৩। বক্ষ বৃদ্ধি পায়।
৪। বগল ও একান্ত ব্যক্তগিত অঞ্চলে চুল গজায়।
৫। মাসিক/ঋতুস্রাব শুরু হয়
৬। উরূ ও রান ভারি হয়
৭। যৌনাঙ্গ , জরায়ু ও ডিম্বাশয় বড় হয়।

মেয়েদের মাসিক চলাকালিন সময়ে কিছু ব্যাপারে সর্তক থাকতে হবে যেমন,
১। নিয়মিত গোসল করতে হবে।
২। মাসিক বা ঋতুস্রাব এর সময়ে পরিষ্কার নরম কাপড় বা প্যাড যাকে আমরা ন্যাপকিন বলি তা ব্যবহার করতে হবে।
৩। দিনে তিন থেকে চারবার প্যাড বা কাপড় পরিবর্তন করতে হবে।একই কাপড় বেশিদিন ব্যবহার করা যাবে না।
৪। ব্যবহার করা কাপড় ভাল করে সাবান দিয়ে ধুয়ে রোদে শুকাতে হবে পারলে ইস্ত্রি করে আবার ব্যবহার করতে হবে।
৫। ফেলে দেয়া কাপড়ও ধুয়ে ডাস্টবিনে ফেলতে হবে বা পুড়িয়ে ফেলতে হবে তা না হলে হেপাইটিস-বি, সি সহ অনেক রোগ ছড়াতে পারে।

মাসিকের সময় কিছু শারীরিক সমস্যা থাকবে। যেমন,
১। জ্বর ভাব বা জ্বর বা স্তনে ও তলপেটে ব্যাথা।
২। শরীর ম্যাজম্যাজ করা।
৩। মেজাজ খিটখিটে থাকা।
৪। মাথা ঘোরা ইত্যাদি।
বেশিরভাগই আসলে কোন রোগ না মাসিককের শেষদিকে ব্যাথা বা অন্য সমস্যাগুলো কমে আসে। তবে অবশ্যই মনে রাখা উচিত এগুলো যেকোনটা যদি খুব বেশী হয়, যেমন,
১। তলপেটে বেশি ব্যথা হলে
২। মাসিক অনিয়মিত হলে
৩। অতিরিক্ত বা অল্প মাসিক হলে
৪। মাসিক বা ঋতুস্রাব বন্ধ হয়ে গেলে
৫। স্রাব বেশী হলে কিংবা ৭ দিনের বেশী সময় ধরে চলে তাহলে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।
অবশ্যই মনে রাখতে হবে
১। বয়ঃসন্ধিকালীন শারীরিক ও প্রজনন অঙ্গের পরিবর্তনগুলি স্বাভাবিকভাবে মেনে নেয়া।
২। প্রজনন স্বাস্থ্য সম্পর্কে সঠিক তথ্য জেনে সেগুলো মেনে চলতে হবে।
৩। মাসিক বা ঋতুস্রাবজনিত সমস্যায় অবশ্যই স্বাস্থ্যকর্মীর পরামর্শ গ্রহণ করা উচিত।

ডঃ এন কে নাতাশা।
অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর, বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অফ হেল্‌থ সায়েন্স ।
সহকারী পরিচালক, দেস ফ্রিসকা।

Related Posts